পাগল হাসান

পাগল হাসান

মরমী সাধক ও গীতিকার


10
মোট গান
219
মোট পঠিত

জীবনী ও দর্শন

পাগল হাসান ১৯৯০ সালের ১ জুন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুলতলা গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর প্রকৃত নাম মতিউর রহমান হাসান ।
শৈশব: তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলশাদ মিয়া (দিলোয়ার হোসেন) মারা যান যখন হাসানের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর । তাঁর মা আমেনা বেগম অনেক কষ্টে সন্তানদের বড় করেন। হাসান ছিলেন চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় এবং বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে (এক ছোট ভাই পানিতে ডুবে মারা যায়) ।
সংসার: ২০১১ সালে তিনি লুৎফা বেগমকে বিয়ে করেন । তাঁর পরিবারে মা, স্ত্রী এবং দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে ।
কর্মজীবন: গানের নেশা তাঁর মজ্জাগত থাকলেও জীবিকার তাগিদে ২০০৪ সালে তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে অফিস সহায়ক পদে যোগদান করেন ।
সংগীত জীবন ও সাধনা:
তিনি মূলত মরমি ভাবধারার শিল্পী ছিলেন এবং নিজেকে শাহ্ আব্দুল করিমের উত্তরসূরী মনে করা হতো ।
শিক্ষা: সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক দেবদাস চৌধুরী রঞ্জনের কাছে তিনি দীর্ঘকাল সংগীতের তালিম নেন ।
সংগীতের বৈশিষ্ট্য: তাঁর গানে দুঃখ, বিষাদ এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের সমন্বয় পাওয়া যায় । তাঁর নিজের একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল—গান লিখতে হলে "বুকভরা পরম দুঃখের" দরকার হয় ।
উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম ও গান:
বিখ্যাত গান: 'আসমানে যাইও না রে বন্ধু', 'জীবন খাতা', 'তোর পিরিতের টানে', 'মাটির দেহ' এবং 'হৃদয় মাঝে' ।
চলচ্চিত্র: তিনি 'বাংলার হারকিউলিস' চলচ্চিত্রের গানের সাথে যুক্ত ছিলেন।
মরণোত্তর মুক্তি: তাঁর মৃত্যুর পর 'মাদুলি', 'দশ দুয়ারী মাইয়া' এবং লালন ব্যান্ডের সাথে কোলাবরেশন গান 'বাগানের মালি' মুক্তি পায় । তাঁর আরও প্রায় ২০টি অপ্রকাশিত গান রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে তাঁর অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশিত হবে ।
মর্মান্তিক প্রস্থান:
১৮ এপ্রিল ২০২৪ সকালে গান গেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে সিএনজি ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি নিহত হন । এই দুর্ঘটনায় তাঁর সাথে আব্দুস সাত্তার নামে আরও একজন প্রাণ হারান । তাঁর স্মরণে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে 'পাগল হাসান কুঞ্জ' নামক একটি মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে ।