জীবনী ও দর্শন
মরমী সাধক শিতালং শাহ (১৮০০-১৮৮৯) ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা এবং লোকসাহিত্যের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তার জীবন ও দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
জন্ম ও বংশ পরিচয়
জন্ম: তিনি ১৮০৬ সালের মে মাসে (১২০৭ বঙ্গাব্দ) ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত সিলেটের করিমগঞ্জ মহকুমার বদরপুর থানার খিত্তাশিলচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা-মাতা: তার বাবার নাম মুহম্মদ জাহাবখস আলী এবং মাতার নাম সুরতজান বিবি। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তার বাবা ঢাকার নবাব বংশীয় ছিলেন এবং পরে সিলেটে স্থায়ী হন।
আসল নাম: তার পারিবারিক নাম ছিল মুহম্মদ সলীম উল্লাহ।
শিক্ষা ও সাধনা
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা: তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। শিক্ষাগ্রহণ করেছেন গোলাপগঞ্জের বিখ্যাত আজিরিয়া মাদ্রাসায়।
আধ্যাত্মিক দীক্ষা: তিনি শাহ আব্দুল ওহাব এবং শাহ আব্দুল কাদিরের নিকট 'ইলমে তাছাউফ'-এর দীক্ষা নেন। তার ওস্তাদ তার নাম দেন 'শিতালং শাহ', যার অর্থ 'পায়ের গোড়ালির গোল হাড়'।
কৃচ্ছ্রসাধন: ওস্তাদের নির্দেশে তিনি দীর্ঘ ১২ বছর লাউড়ের পাহাড় ও ভুবন পাহাড়ে নির্জনে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন।
সাহিত্যকর্ম ও দর্শন
তিনি মুখে মুখে প্রায় ৩০০-এর বেশি গান ও কাব্য রচনা করেছেন। তার দর্শনে ইসলামী আধ্যাত্মিকতার সাথে বৈষ্ণবীয় প্রেমতত্ত্বের এক অদ্ভুত মিলন দেখা যায়।
প্রধান গ্রন্থসমূহ: তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত— 'মুস্কিল তরান', 'কিয়ামতনামা' এবং 'রাগ বাউল'।
নাগরী লিপি: তার অনেক গান ও পুঁথি ঐতিহ্যবাহী সিলেটি নাগরী লিপিতে লিপিবদ্ধ ছিল।
বিশেষত্ব: শিতালং শাহ জীবদ্দশায় তার গানগুলো মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিলেন, যার ফলে অনেক সৃষ্টি কালক্রমে হারিয়ে গেছে।
বিখ্যাত কিছু গান
১. "সুয়া উড়িলো উড়িলো জীবেরও জীবন..." — এই গানটি আধ্যাত্মিক বাউল গানের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
২. "আগে চিনো মোহাম্মাদি নূর..."
৩. "হায় রে পিরিতের সেল..."
তার সমাধি বা মাজার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে অবস্থিত।
জন্ম ও বংশ পরিচয়
জন্ম: তিনি ১৮০৬ সালের মে মাসে (১২০৭ বঙ্গাব্দ) ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত সিলেটের করিমগঞ্জ মহকুমার বদরপুর থানার খিত্তাশিলচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা-মাতা: তার বাবার নাম মুহম্মদ জাহাবখস আলী এবং মাতার নাম সুরতজান বিবি। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তার বাবা ঢাকার নবাব বংশীয় ছিলেন এবং পরে সিলেটে স্থায়ী হন।
আসল নাম: তার পারিবারিক নাম ছিল মুহম্মদ সলীম উল্লাহ।
শিক্ষা ও সাধনা
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা: তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। শিক্ষাগ্রহণ করেছেন গোলাপগঞ্জের বিখ্যাত আজিরিয়া মাদ্রাসায়।
আধ্যাত্মিক দীক্ষা: তিনি শাহ আব্দুল ওহাব এবং শাহ আব্দুল কাদিরের নিকট 'ইলমে তাছাউফ'-এর দীক্ষা নেন। তার ওস্তাদ তার নাম দেন 'শিতালং শাহ', যার অর্থ 'পায়ের গোড়ালির গোল হাড়'।
কৃচ্ছ্রসাধন: ওস্তাদের নির্দেশে তিনি দীর্ঘ ১২ বছর লাউড়ের পাহাড় ও ভুবন পাহাড়ে নির্জনে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন।
সাহিত্যকর্ম ও দর্শন
তিনি মুখে মুখে প্রায় ৩০০-এর বেশি গান ও কাব্য রচনা করেছেন। তার দর্শনে ইসলামী আধ্যাত্মিকতার সাথে বৈষ্ণবীয় প্রেমতত্ত্বের এক অদ্ভুত মিলন দেখা যায়।
প্রধান গ্রন্থসমূহ: তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলো প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত— 'মুস্কিল তরান', 'কিয়ামতনামা' এবং 'রাগ বাউল'।
নাগরী লিপি: তার অনেক গান ও পুঁথি ঐতিহ্যবাহী সিলেটি নাগরী লিপিতে লিপিবদ্ধ ছিল।
বিশেষত্ব: শিতালং শাহ জীবদ্দশায় তার গানগুলো মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিলেন, যার ফলে অনেক সৃষ্টি কালক্রমে হারিয়ে গেছে।
বিখ্যাত কিছু গান
১. "সুয়া উড়িলো উড়িলো জীবেরও জীবন..." — এই গানটি আধ্যাত্মিক বাউল গানের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
২. "আগে চিনো মোহাম্মাদি নূর..."
৩. "হায় রে পিরিতের সেল..."
তার সমাধি বা মাজার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে অবস্থিত।