জীবনী ও দর্শন
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম (১৯১৬-২০০৯) বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের একজন কিংবদন্তি মরমি শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই বাউল গায়ক একাধারে আধ্যাত্মিক, দেহতত্ত্ব, প্রণয় ও গণসংগীতের প্রায় ১৬০০-এর বেশি গান রচনা করেছেন। 'বন্দে মায়া লাগাইছে'সহ কালজয়ী অনেক গানের স্রষ্টা তিনি, [১, ৫, ৬] যা তাঁকে অমর করেছে।
শাহ আব্দুল করিমের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:
জন্ম ও শৈশব: ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন [১]।
শিক্ষাজীবন ও শৈশব: চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়নি। অল্প বয়সেই উপার্জনের জন্য রাখালি ও কৃষি কাজ শুরু করেন [১, ১৫]।
সংগীত জীবন: ছোটবেলা থেকেই বাউল গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন ও মৌলা বক্স মুন্সিকে তিনি তাঁর উস্তাদ মানতেন [১]।
গান রচনা: তিনি নিগূঢ়তত্ত্ব, ভক্তিগীতি, বিচ্ছেদ, মুর্শিদি, গণসংগীত ও দেশের গান রচনা করেছেন [১]।
উল্লেখযোগ্য গান: "বন্দে মায়া লাগাইছে", "আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম", "কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু", "বসন্ত বাতাসে সখীর", "আমি কূলহারা কলঙ্কিনী" ইত্যাদি [১, ৫]।
পুরস্কার ও সম্মাননা: বাউল সংগীতে অবদানের জন্য ২০০১ সালে [১] বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেন [৫]।
মৃত্যু: ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে সিলেটের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন [৪, ৬]।
শাহ আব্দুল করিমকে বাউল গানের জগতে 'বাউল সম্রাট' হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি আজীবন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা গানে তুলে ধরেছেন