খেয়েছি প্রেমের সারাব, আমার কিসের অভাব।
বাংলার নবাব আমি সেজেছি –
কখন আসে মীরজাফর, ভয়ে কাপে এই অন্তর
এই হালে দিন আমি কাটাইতেছি।।
মাতাল হইয়াছি আমি পাগল হইয়াছি।।
সারাবের ভিতরে দেখেছি যারে।
তার ছবি আমি আঁকিতেছি –
পেলে তার দরশন, ছাড়িবনা দুই চরণ,
মনে প্রানে আমি আশা করেছি।।
মাতাল হইয়াছি আমি পাগল হইয়াছি।।
শ্বেত পাথরের গ্লাস ভরে দেরে দে দে আমারে
আমি যে প্রেম সাগরে ঝাপ দিয়েছি
আলো আর অন্ধকার কিসের আমার দরকার
কয় সালাম সরকার আমি আমার মতে চলেছি।।
মাতাল হইয়াছি আমি পাগল হইয়াছি।।
বেশির চেয়ে কম ও ভালো হয় যদি আসল
জাতের মেয়ে কালো ভালো ঘোলা নদীর জল……..
কোকিল পাখি লাগে ভালো বসন্তে গায় গান
বন্ধুর চেয়ে শত্রু ভালো হইলে সে বিদ্যান রে ||
শরমের চে মরণ ভালো নাইয়ের চেয়ে কিচ্ছু
শাসন গুণে সন্তান ভালো মন্ত্র গুণে বিচ্ছু…….
সু- বচনে জবান ভালো সু-বিদ্যাতে জ্ঞান
সু-দর্শনে চক্ষু ভালো সু-শ্রবণে কান রে ||
পিতা মাতার মন ভালো সন্তান হলে সুখী
হিংসাখোরের লাগে ভালো দেখলে কেউরে দুখী…….
শত্রুর কাছে লাগে ভালো হইলে কেউ হয়রান
বন্ধুর কাছে লাগে ভালো মুশকিলে আহসান রে |।
ব্যায়াম করলে স্বাস্থ্য ভালো মনযোগে শিক্ষা
অল্প নিদ্রায় আত্মা ভালো মুক্ত হস্তে ভিক্ষা……..
এই দুনিয়ায় সবচেয়ে ভালো নিজের জন্মস্থান
মাতৃভাষা আরো ভালো বাংলা মোর জবানরে ||
কও রে পথিক ভাই
তুমি নি দেখেছ আমার
প্রাণবন্ধু কানাই –
যার লাগিয়া পাগল হইয়া
কাঁদিয়া বেড়াই ॥
ভাই রে ভাই,
হাতে বাঁশি মাথে চূড়া
পীতবসন পরা
নয়নে প্রেমের রেখা
মুনির মনোহরা
কী দিব রূপের তুলনা
ত্রিভুবনে নাই
রূপ দেখিয়া পাগল হইয়া
কুলে দিলাম ছাই ॥
ভাই রে ভাই,
দেখে থাকলে কও রে
বন্ধু কোন দেশেতে আছে
কার ভালোবাসায় বন্ধু
ভুলিয়া রয়েছে
দেখিলে জীবন বাঁচে
নইলে মরে যাই
অভাগিনী পোড়া প্রাণি
কী দিয়া জুড়াই ॥
ভাই রে ভাই,
বন্ধু আমার ছেড়ে গেল
বাম হইল বিধি
আপন কর্মদোষে হারা
হলেম গুণনিধি
পাগল আবদুর করিম বলে
ভেবে তনু ছাই
বন্ধু বিনে এ ভুবনে
আমার কেহ নাই ॥
সখি গো, থাকি আমি পরার ঘরে
কত মন জুগাইলাম তারে
গলে লইলাম কলঙ্কের মালা
শাশুড়ি ননদি বাদি এই যন্ত্রণায় সদায় কাঁদি
বন্ধে আরও দিলো দ্বিগুণ জ্বালা ॥
সখি গো, প্রেম করা বড় জ্বালা
না করছে-জন আছে ভালা
যে করছে তার সোনার অঙ্গ কালা
যে জন প্রেমের ভাও জানে না
তার সঙ্গে প্রেম করিও না
মরছি মরছি আমি মরছি ভালা ॥
সখি গো, আসত বন্ধু কইতাম কথা
যাইত আমার মনোব্যথা
মাথায় লইতাম তার চরণের ধুলা
আবদুল করিম কয় ভাবিয়া
আসত যদি শ্যামকালিয়া
কইতাম দুঃখ পাইলে নিরালা ॥
মুর্শিদের আশ্রয় নিলে
মনপ্রাণ বিকাইয়া দিলে
ভবব্যাধির ঔষধ মিলে
এছাড়া আর উপায় নাই ॥
মুর্শিদ আঁধারের বাতি
ভক্তজনের চিরসাথি
ঔষধ হোমিওপ্যাথি
খাইলে রয় না রোগ বালাই ।
অভক্ত তার কাছে যায় না
তাই তো সে সন্ধান পায় না
দয়াল সে-জন পয়সা চায় না
বিনামূল্যে ঔষধ পাই ॥
ঔষধ নয় সুধা যাচে
সুধা মিলে প্রেমের গাছে
ভক্তজন খেয়ে বাঁচে
অভক্তের কপালে ছাই ।
সর্বহারা হয়ে পরে
আবদুল করিম চিন্তা করে
মুর্শিদের চরণ ধরে
স্বরূপে রূপ দেখতে চাই ॥
প্রাণের প্রাণ মুর্শিদ আমার
মৌলা বক্স নাম যাহার
চরণেতে জানাই আমি
সালাম হাজার হাজার ॥
যুগের শেষে এসে যখন
জন্ম নিলেন এ ধরায়
জেলা হয় সুনামগঞ্জ
জন্মস্থান হয় উকারগাঁয়
শরিয়তে পাবন্দ ছিলেন
তরিকতের রাহাদার
সুফি সাধক ছিলেন
মারিফত করে বিচার ॥
শিষ্য ভক্ত আশেকগণ
সবারে করে কাঙাল
তেরোশো আটান্ন সনে
করলেন তিনি ইন্তেকাল
নুরের বাতি নিভে যেদিন
হয়ে গেল অন্ধকার
আষাঢ় মাসের নয় তারিখ
ছিল সেদিন রবিবার ॥
ভক্তবৃন্দ আছে কত
করে সদা গুণগান
খাঁটি প্রেমের প্রেমিক যারা
তাদের জন্য বর্তমান
বাউল আবদুল করিম বলে
ইজ্জতে আশেক সবার
ইহকাল পরকালে
পাইতে রহমত দিদার ॥
আগের বাহাদুরী এখন গেল কই
চলিতে চরণ চলে না, দিনে দিনে অবশ হই ॥
মাথায় চুল পাকিতেছে মুখে দাঁত নড়ে গেছে
চোখের জ্যোতি কমেছে, মনে ভাবি চশমা লই।
মন চলে না রঙতামাশায় আলস্য এসেছে দেহায়
কথা বলতে ভুল পড়ে যায়, মধ্যে মধ্যে আটক হই ॥
কমিতেছি তিলে তিলে ছেলেরা মুরব্বি বলে
ভবের জনম গেল বিফলে, এখন সেই ভাবনায় রই।
আগের মতো খাওয়া যায় না বেশি খাইলে হজম হয় না
আগের মতো কথা কয় না, নাচে না রঙের বাড়ই ॥
ছেলেবেলা ভালো ছিলাম, বড় হয়ে দায় ঠেকিলাম
সময়ের মূল্য না দিলাম তাই তো জবাবদিহি হই।
যা হবার তা হয়ে গেছে আবদুল করিম ভাবিতেছে
এমন এক দিন সামনে আছে, একেবারে করবে সই ॥